এম টি রহমান মাহমুদঃ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান গোপালগঞ্জ পৌরসভা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরটির প্রশাসনিক, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়।
দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভা সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে আসছে। তবে দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনও অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিশেষ করে অনেক এলাকার সড়ক সরু হওয়ায় জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ না থাকায় বর্ষাকালে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, শহরের বিভিন্ন পাড়া ও এলাকার নামকরণ, সড়ক পরিকল্পনা এবং নগর সম্প্রসারণে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নতুন সড়ক, পার্কিং, উন্মুক্ত স্থান, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় শহরটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও বিশেষ। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। ফলে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর গোপালগঞ্জের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে স্থানীয় নাগরিকদের কেউ কেউ মনে করেন, পৌর বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নাগরিক সেবাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বাজেট উপস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে নাগরিক ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে বলে তাদের মত।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের পাশাপাশি পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর নাগরিক সেবার মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা ভবিষ্যতে আরও বাসযোগ্য ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।

