এরশাদ রানা (কুমিল্লা):
কুমিল্লার সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক উপজেলা চৌদ্দগ্রাম।এখানে রয়েছে ক”শ্রেণির একটি পৌরসভা সহ সাড়ে ৫লাখ মানুষের জনবসতি।এর পূর্বাঞ্চলে রয়েছে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা সহ অর্ধডজন বিজিবি ক্যাম্প।
কিন্তু পুরো উপজেলা জুড়ে নেই কোনো বিনোদন কেন্দ্র,ফলে কাংখিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা হারাতে শুরু করেছে এ-অঞ্চলের কোমলমতি শিশুরা।বিষয়টি অনুধাবন করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাবেক ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন একটি দৃশ্যমান পৌর পার্ক নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।যে পৌর পার্কটি নির্মিত হলে চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি শিশুদের মধ্যে পরিলক্ষিত হতো আনন্দ উচ্ছসিত ভাব,স্বস্তি পেতো অভিভাবকরা,নজর কারতো ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী যাত্রীদের।
মাত্র ৯মাসের মধ্যে বিদায়ী ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন চৌদ্দগ্রাম পৌর পার্ক সহ অসংখ্য অসমাপ্ত কাজের পরিধি হাতে নিয়েছিলেন,কিন্তু সেটি সময়ের ব্যবধানে তিনি সমাপ্তিকরণ করে যেতে পারেননি।তবে যে সকল কার্য্যত সম্পূর্ণ করে গিয়েছেন,সেই সুবাদে উপজেলার সাড়ে ৫লাখ মানুষ তার জন্য অঝোরে চোখের পানি জড়িয়েছেন।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ,চেয়ারম্যান,মেম্বার, রাজনৈতিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ,উপজেলা পরিষদের সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারী সহ সকল স্তরের মানুষের মুখে অনুরুপ ভাষা ছিল” জামাল হোসেন স্যারের মতো ইউএনও চৌদ্দগ্রামে আর কখনো আসবে না।জীবনে বহু ইউএনও’কে দেখেছি,তার মতো এতো নম্র,বিনয়ী ও মানবিক ইউএনও আর দেখিনি।এমনটি বলতেই দু’চোখের পানি ছেড়ে দিতে দেখা গেছে বিদায়ী মুহূর্তের উপস্থিত জনতাকে।
একই ইস্যূতে সর্বসাধারণরা বলেছেন-একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি উপজেলায় সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী ০২ থেকে ০৩ বছর কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ পাওয়ার বিধান থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ০৯ মাস।কাজেই এর মধ্যে বৃহত্তর এই পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ না করলেও পারতেন। করেছেন শুধুমাত্র কর্মময় উপজেলাকে নিজ উপজেলার জন্মভূমির মতো স্বীকৃতি দিয়েছেন বলেই।ভেবেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কোমলমতি শিশু তথা ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা।একটি জরাজীর্ণ উপজেলাকে তিনি গড়ে তুলেছেন মডেল উপজেলা হিসেবে।সরকারের নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াও তিনি দিবারাত্র অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন এই উপজেলায়।স্বার্থকতা ছিল একটাই বিদায়ের মূহুর্তে প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করবেন।
অবিকল তেমনটি নিয়েই তিনি সদূর বরিশাল জেলা পরিষদে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন।
