এরশাদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ নিজেই ঠিকাদার,নিরবে নিভৃতে করে যাচ্ছেন দূর্নীতি।গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী সরকারের ত্রাণও পূনর্বাসন দপ্তর থেকে এই উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৬৬টি।তার মধ্যে টিআর বাবদ ২কোটি ১৫লাখ ৫৭হাজার ৯৭৪টাকা ও কাবিটা বাবদ ২কোটি ৯১লাখ ৬১হাজার ৬৬১টাকা,খাদ্য শস্য গম/চাল প্রথম পর্যায়ে ২২০টন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২৬টন।যার মূল্য ১৩লাখ ৮৪হাজার টাকা।
তারমধ্যে উপজেলা কমিটির ২০% রিজার্ভে থাকা ৫টি প্রকল্প বাবদ ১৯লাখ ৩১হাজার ৮৫৫টাকার কোনো হদিস মিলছে না।প্রকল্প সমুহের ক্রমিক নং-৫ অনুযায়ী আনসার ক্যাম্প এর পিছনের পুকুর সংস্কারও পার রক্ষাকরণের উন্নয়ন বাবদ ৩লাখ টাকার বরাদ্দ ,সেখানে মাত্র ১০হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে,প্রকল্প নং-৬ বিয়াম স্কুলের সম্মুখভাগে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ,মাটি ভরাট ও উন্নয়ন বাবদ ৬লাখ টাকার বরাদ্দ,সেখানে ২থেকে ৩লাখ টাকার নালা নির্মাণ করা হলেও নতুন করে কোনো মাটি ভরাট করা হয়নি,প্রকল্প নং-৭ মডেল মসজিদের পিছনে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ বাবদ ২লাখ টাকার বরাদ্দ,সেখানে ১লাখ টাকার কাজও হয়নি, প্রকল্প নং-৮৯ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সেবা কেন্দ্রের নির্মাণ ও সম্মুখভাগে বৃক্ষরোপন বাবদ ৪লাখ ৪০হাজার টাকার বরাদ্দ,সেখানে পুরো উপজেলা চত্বর মিলিয়ে ৫০হাজার টাকার বেশি বৃক্ষরোপন করা হয়নি সর্বশেষ প্রকল্প নং-৯০ উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা তথ্য কেন্দ্রের উন্নয়নও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৩লাখ ৯১হাজার ৮৫৫ টাকা ৬০পয়সার বরাদ্দ,সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটি ঘুরে দেখা গেছে শখের কিছু ফুলের টপ, কয়েকটি ল্যাপটপ ও দুটি রুমের বাহিরে রং করা হয়েছে,যেখানে সবমিলিয়ে ২লাখ টাকারও কম ব্যয় হওয়ার কথা।
বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার,রাজনৈতিক নেতাকর্মীও পিআইও নিজের কাছে বন্টন করতে গিয়ে অতীব জরুরী হয়ে পড়েছিল ৯৫টি সরকারি ষ্ট্যাম্পের,যার মূল্য ৯৫×৩১৫ মোট ২৯হাজার ৯২৫ টাকা,অথচ সেসব ষ্ট্যাম্পগুলো বিক্রি করা হয়েছে ৯৫×৬০০ মোট ৫৭হাজার টাকা।
শুধু এখানেই পিআইও আবুল কালাম আজাদের দূর্নীতির শেষ নয়,তিনি নিজে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন না করে তার লালিত অবৈধ নিয়োগের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আল-আমিন কে দিয়ে পরিদর্শন করে থাকেন,তার সাথে মাষ্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান,কোটি টাকার মালিক অফিস সহায়ক মোঃ আলাউদ্দিন সহযোগিতা করে থাকেন।দিনশেষে বৈধ অবৈধ জনবলরা এই পিআইও আবুল কালাম আজাদের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে শুরু হয় গড়িমসি, মেজাজ থাকে খিটখিটে।এসময় তার সাথে উপজেলার কোনো সেবাগ্রহীতাদের কথা বলার সুযোগও থাকে না।কোনো কোনো সময় স্হানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও তার কাছে হেনস্তার স্বীকার হতে হয়।তবে পিআইও আবুল কালাম আজাদ এসবকে কখনোই তোয়াক্কা করে না,তার কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিন,জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী সহ অর্ধডজন সরকারি কর্মকর্তা হাতের মোয়া।
যখনই কোনো সাংবাদিক কিংবা সচেতন মহল তার দূর্নীতির আখড়া টেনে ধরে ঠিক তখনই সরকারের এসব কর্মকর্তার টেবিলে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে।তাদের কাছে তখন চৌদ্দগ্রামের পিআইও দুধের ধুয়া তুলসীপাতা।নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন- চৌদ্দগ্রামের পিআইও’র চলমান দূর্নীতি, অফিসের বহিরাগত জনবল নিয়োগ, অবৈধ ইন্জিনিয়ার নিয়োগ, উপজেলার ৫টি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা সহ অসংখ্য অভিযোগের কথা (ইউএনও) মোঃ নুরুল আমিনও কুমিল্লা জেলা ত্রাণও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলীকে অবহিত করা হয়েছিল কিন্তু তাদের কাছে কোনো সাড়া শব্দ মিলেনি।তার মানে পিআইও আবুল কালাম আজাদের বড় খুঁটি জেলা/উপজেলার এই ২শীর্ষ কর্মকর্তা।
গত ২২ফেব্রুয়ারী স্মারক নম্বরঃ৫১.০১.১৯০০.০২৫.১৮.০০৯.২৫.১২৫ এর অনুকূলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যূ করা হয়েছিল।ঐ চিঠিতে সর্বশেষ কলামে লিখা ছিল এ-জেলার উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহকে আগামী (৭)দিনের মধ্যে বহিরাগত মুক্ত করার জন্য পূনরায় নির্দেশনা প্রদান করা হলো।অন্যথায় এ ধরণের শৃঙ্খলা পরিপন্থী,অপ্রাতিষ্ঠানিক বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিগত ভাবে দায়ী হবেন এবং তিনি/তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।বিষয়টি অতীব জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ।ডিআরআরও কুমিল্লার এমন নির্দেশনাও পিআইও আবুল কালাম আজাদের কাছে কৌতুহল মনে হয়েছে।যেদিন এমন বার্তাটি পিআইও নিজ চোখে দেখতে পায় তখন সে হেসে বলে এরকম কত চিঠি টেবিলের নিচে পড়ে আছে।আল-আমিন এই অফিসেই থাকবে,তাকে আমি কখনোই সরাবো না,পারলে কেউ ঠেকাতে আসুক।
