সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে “আপনার সরকারকে বলুন”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে "আপনার সরকারকে বলুন"

সৌরভ দত্ত, বিশেষ প্রতিনিধি :

১ জুন থেকে সকল মহিলারা রাজ্যে সরকারি বাসে বিনামূল্যে চড়ার সুযোগ পাবেন। তবে এরপর ধীরে ধীরে ‘কার্ড’ পদ্ধতি চালু হবে। ওই কার্ড দেখালে বিনামূল্যে বাসে যাত্রা করা যাবে। আজ সাংবাদিকদের সামনে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ তথ্য জানালেন।

কেন সরকার এই কার্ড ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছে, সেই কারণও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ডোমকলে অনেক পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছেন, যা তার সরকার মেনে নেবে না। এছাড়া, যদি কোনো পুরুষ বোরখা পরিধান করে বাসে চড়েন, সেটি বাসের কন্ডাক্টর বা চালকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়, এমনটিও জানান শুভেন্দু। এই কারণে সরকার কার্ড তৈরি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এভাবেই ‘কারচুপি’ নির্মূলের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু ফ্রি বাসের ক্ষেত্রেই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রেও ‘স্ক্রুটিনি’ করে প্রকল্পের অর্থ বিতরণ হবে বলে তিনি জানান।

এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ভারতীয়দেরই এসব প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। অবৈধ বাংলাদেশীরা কোনও ভারতীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মনে রাখতে হবে, রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার পরিষেবা ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে। এই সুবিধা কার্যকর করতে পরিবহণ দফতর একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ‘পিঙ্ক কার্ড’ হবে বিনামূল্যের যাত্রার মূল প্রমাণপত্র।

এই পরিকল্পনার আওতায়, মহিলারা বাসে উঠলে পিঙ্ক কার্ড দেখালে কন্ডাক্টরদের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য শূন্য টাকার টিকিট দেওয়া হবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত কার্ডগুলো বিতরণ সম্পন্ন হচ্ছে না, ততদিন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড অথবা রাজ্যের বাসিন্দা প্রমাণকারী অন্য কোনও বৈধ পরিচয়পত্র দেখালে বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

পিঙ্ক কার্ড তৈরির নিয়মগুলি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত খবর অনুযায়ী, বিডিও, এসডিও অফিস এবং পৌরসভাগুলির মাধ্যমে এটি বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে। সরকার পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা-ক্যান্টিন’ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাবে বলে বিতর্ক ছিল।

তবে আজ নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এই প্রকল্প অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন। বরং এই ক্যান্টিনে সপ্তাহে দুদিন মাছ পরিবেশন করা হবে।
নতুন সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তা সরাসরি জানানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী সরকার একটি নম্বর চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’। এই নামটি বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঠিক করেছেন বলে শুভেন্দু জানিয়েছেন।