বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার

আমদানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত এক বছরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৩.৭১ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি বাড়লেও রপ্তানি প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.১৫ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ধীরগতির কারণে এই পতন দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এ সময়ে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছরে একই সময়ে ছিল ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৪৬.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫.৬০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্যপণ্য ও সারের আমদানি বৃদ্ধিও এর একটি বড় কারণ। সম্ভাব্য বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে আগাম আমদানি বাড়ানো হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ১.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

এই উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয়। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮.৪৯ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় বড় বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে আর্থিক হিসাবেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪.০৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ট্রেড ক্রেডিটও ইতিবাচক অবস্থানে এসেছে, যা রপ্তানি আয়ের বকেয়া দেশে ফেরার ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে কিছু চাপ থাকলেও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *