নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সংঘাত মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র রাজনীতি দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের প্রধান চাওয়া। ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব, হানাহানি ও শক্তির প্রদর্শন বন্ধ করে সুস্থ সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
রাজনীতি বলতে আমরা কি বোঝা? রাষ্ট্র বা সরকারের বা জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-স্বল্পতা, ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করা কি রাজনীতি নয়? বর্তমানে দেশের অস্থিতিশীলতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আলোচনা করা কি রাজনীতি নয়? তাহলে কি রাজনীতি শুধু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং না করার মধ্যে সীমাবদ্ধ? নাকি চাঁদাবাজি, হল দখল, জমি দখল, খাল দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এসবও রাজনীতি?
ছাত্র রাজনীতির আদর্শগত ভিত্তি হতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণের প্রতি নিবেদিত। এ ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক উন্নয়ন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গঠন করতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি অবশ্যই সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের নেতৃত্ব গুণ বিকশিত হয়। তবে বলপ্রয়োগ বা সংঘাতের রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে।
ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি মূল্যবান ভিত্তি। ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সচেতনতা, অধিকার সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। ইতিহাসে দেখা যায়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছাত্র সমাজ গুরুত্ব ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সুস্থ ও সুন্দর ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের যুক্তি, সংগঠিত হয়ে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠ প্রদান করে, তবে সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন ছাত্র রাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়ে দলীয় স্বার্থ, সহিংসতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যদিও মূল আলোচনা ছাত্র রাজনীতি নিয়ে, কিন্তু আমি মনে করি, ছাত্র রাজনীতি একটি পৃথক বিষয় নয়। এর সাথে শিক্ষক রাজনীতি, বিভিন্ন পেশাজীবীদের রাজনীতি, শ্রমজীবী সংগঠনের বিষয়গুলো যুক্ত। কোনটিকে অন্যটির থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।
দলীয় লেজুরভিত্তি ছাত্র সংগঠন বা শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী সংগঠনের বিরোধিতা আমি করি, কিন্তু সেইসাথে এও বলছি যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এইসব সংগঠনের অপরিহার্য ও অপরিসীম।
প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের অধিকার রয়েছে এবং উচিত এবং প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা ও সে আলোকে নিজের মতামত প্রকাশ করা। কোন আইন করে নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, যদি না সে গোষ্ঠী বা সংগঠন আদর্শগতভাবে হিংসাত্মক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে।

