মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের খাদ্য চাহিদা মেটানো এবং স্কুলে আসার হার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া “মিড ডে মিল” বা স্কুল ফিডিং প্রকল্প বর্তমানে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিতর্কিত হয়েছে।
শিশুদের জন্য গৃহীত এই বৃহৎ উদ্যোগের বাস্তবায়নে খাবারের মানহীনতা এবং পর্যবেক্ষণের অভাব নিয়ে দেশে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে।
বিভিন্ন জেলাতে অভিযোগ এসেছে যে, শিক্ষার্থীদের ফেলানো খাবারগুলোর মান অত্যন্ত নিম্ন এবং অস্বাস্থ্যকর। কোথাও পঁচা বা পুরনো রুটির সঙ্গে পরিচিতি, আবার কোথাও অপরিপক্ব এবং রাসায়নিকযুক্ত কলা এবং কোথাও নির্ধারিত মানের তুলনায় কম ওজনের ডিম বিতরণ করা হচ্ছে। এসব খাবার খাওয়ার পর কয়েকটি স্থানে শিশুরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনায়ও রিপোর্ট করা হয়েছে।
তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে খাবার সরবরাহ করার জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কার্যরত রয়েছে। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকরী নজরদারি থাকার অভাবে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের হাতছাড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ডিম এবং কলা সরবরাহ নিয়েও প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হচ্ছে, যারা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অধিকাংশের সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছে না। ফলে সাধারণ জনগণের সন্তানদের জন্য নিম্নমানের খাবারের বিতরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ এবং প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকার শিশুদের পুষ্টি উন্নয়ন ও ঝরে পড়া কমানোর জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু যথাযথ নজরদারি ও জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য খর্বিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের খাদ্য নিয়ে অনিয়ম শুধুমাত্র দুর্নীতি নয়, এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। তাই প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠে এসেছে।
