বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই; বরং সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় সরকারের প্রস্তুতি ও মজুত বেশি রয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, অতিরিক্ত আতঙ্কের কারণে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনে মজুত করছে, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাত দেশের অর্থনীতি, উৎপাদন ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ থাকলেও বাংলাদেশ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন, যা বর্তমানে বেড়ে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। গত ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হলেও মজুত বৃদ্ধি পাওয়া সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের মার্চের তুলনায় এবার ১০–২৫ শতাংশ বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে চাহিদা সে হারে বাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি মার্চ মাসে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক চাহিদার প্রতিফলন নয়। মোট ব্যবহারের বড় অংশ (৬৫ শতাংশ) ডিজেল হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে হাজারো অভিযান চালিয়ে মামলা, জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সামনে এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত অকটেন আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে সরবরাহ আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মজুত দিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে পরিবহন, শিক্ষা ও শিল্পকারখানা সচল রাখা হচ্ছে।
সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানান। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব।
