স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ফ্রান্সের সহযোগিতা চাওয়াও তার এ প্রচেষ্টার অংশ।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সহযোগিতা কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে ফরাসি রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীর নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্তসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় মব নিয়ন্ত্রণে সফল হয়নি, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অধীনে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো মব ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলার প্রশ্রয় দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এলিট ফোর্স প্রয়োজন। র্যাবের নাম সংশোধন, বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিক ব্যবহার করে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে ফোর্সটি কার্যকর রাখা হবে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্ল বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায়। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ফ্রান্স ইতিমধ্যেই সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতায় ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’ ও পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (স্টিটিসি) ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়ার বিষয়েও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন, পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
