জেন-জি বাহাত্তরের সংবিধান চায় না: এনসিপির হান্নান মাসউদ সংসদে দাবি

জেন-জি বাহাত্তরের সংবিধান চায় না: এনসিপির হান্নান মাসউদ সংসদে দাবি

এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, জেনারেশন জেড (জেন-জি) বাহাত্তরের সংবিধান চায় না। তিনি নিজেকে জেন-জের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনি যদি জেন-জি-রা কি চায় জানতে চান, তারা বাহাত্তরের সংবিধান চায় না। তারা জানতে চায় স্বাধীনতার ৩০ বছর পরে জন্ম নিয়ে কেন তারা ভোটাধিকার পায়নি।”

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হান্নান মাসউদ আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি, নতুন পতাকা, মানচিত্র ও সীমানা পেয়েছি। আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা কি সত্যিই নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়েছি? তিনি মনে করেন, তা অর্জিত হয়নি।

তিনি নির্বাচনী এলাকা হাতিয়ার নদীভাঙ্গন, নির্বাচনের সময় নিজে ও সমর্থকদের উপর হামলার বিষয়েও সংসদে আলোকপাত করেন। সরকার দলীয় এমপিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা রক্ত দিয়েছি, তাই আপনারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হয়েছেন।” তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনাও স্মরণ করান।

হান্নান মাসউদ বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রচার করেছেন, আর তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হওয়া উচিত নয়। তিনি ১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আজকে আবার সেই ব্যবস্থায় যাচ্ছেন, আরেকবার মাগুরার উপনির্বাচন হবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?”

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় ও পরে তার উপর হামলা হয়েছে। যারা হামলা করেছে, তাদের মধ্যে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীর রক্ত যুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এই বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম থেকে এক সাংগঠনিক সম্পাদককে অস্ত্রসহ তাদের উপর হামলা করানোর জন্য পাঠানো হয়েছে।

হান্নান মাসউদ আরও অভিযোগ করেন, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৪২ দিন পার হলেও ডিএনএ রিপোর্ট আসেনি, মামলা নিতেও তিন দিনের বিলম্ব হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে আইনপ্রয়োগ ও সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আরও আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ আব্দুল মালিক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *