সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় জনমনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে আগুন ও একটি পাইপসদৃশ বস্তু ব্যবহার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই দাবি করছেন, সেখানে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কেউ যেন ভিডিওটি বিশ্বাস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করেন। পাশাপাশি এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর একই ধরনের আরও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, এতে মোবাইলের টর্চলাইটের আলো এবং ভিডিও ধারণের কিছু অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। যদিও এ দাবিরও কোনো স্বাধীন বা প্রযুক্তিগত যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় গুজব, অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। বরং ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুনরায় বলেন, “ভিডিওগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে।”
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তদন্তকারী কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে ভিডিওটি বাস্তব, সম্পাদিত নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

