আখতারুজ্জামান মিলন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর জেলার পীরগাছা থানায় আলোচিত নূপুর হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজনসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার একটি দক্ষ টিম অভিযান চালিয়ে পীরগাছা থানার মামলা নং-২৮, তারিখ-২৬/০৬/২০২৬, ধারা-১৪৩/১৪৯/৩২৩/৩৪২/৩০২/২০১/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোডের আওতাধীন অভিযোজনামার ১নং অভিযুক্ত মোহাম্মদ খালিদ হাসান মিলু (২৫), পিতা-মৃত নূরনবী সরকার এবং ২নং অভিযুক্ত মোছাঃ দিলরুবা আক্তার দিশা (২২), স্বামী-মোঃ খালিদ হাসান মিলু, উভয় সাং-সতন্তরা, থানা-পীরগাছা, জেলা-রংপুর, শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) রাত প্রায় ০২.৩০ এ তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য যে, বিয়ের পর নুসরাত জাহান নুপুর তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তী সময়ে তারা নুপুরের পিতার বাড়িতে এসে সংসার শুরু করে। অভিযুক্তদ্বয়সহ অন্য অভিযুক্তরা এই মামলার বাদী, অর্থাৎ নুপুরের স্বামী এবং নুপুরের বিয়ের বিষয়ে সম্মতি প্রদান না করায় তাদেরকে বাধা ও বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে।
ঘটনার দিন ১৭/০২/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে, নুপুরের স্বামী নুপুরকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে গেলে অভিযুক্তদ্বয়সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা গালাগালি করতে শুরু করে। ১নং অভিযুক্তের নির্দেশে ২নং অভিযুক্তসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে নুপুরের স্বামীর হাতে, পায়ে, পিঠে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাত করে ফলে তাঁর শরীরে রক্তাক্ত কালশিরা জখম হয়। নূপুরের স্বামী ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে ১নং অভিযুক্ত নুনপুরকে গলা চেপে ধরে মারধর করে এবং নুপুরের স্বামীকে অন্য ঘরে আটক করে রাখে।
অন্যদিকে, ১৮/০২/২০২৬ তারিখ সকালে জানা যায় নুসরাত জাহান নুপুর তার বড় ভাইয়ের শয়ন ঘরের জানালার গ্রিলের সাথে গোঁজা মুড়ি দিয়ে আত্মহনন করেছেন। মৃত নুসরাত জাহান নুপুরের ছোট ভাই মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বাদী হয়ে অপমৃত্যুর সংবাদ প্রদান করলে পীরগাছা থানায় অপমৃত্যুর মামলা নং-০৬/২৬, তারিখ-১৮/০২/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রুজু হয়। নুসরাত জাহান নুপুরের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, নুসরাত জাহান নুপুরকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর নতুন করে পীরগাছা থানায় মামলা নং-২৮, তারিখ-২৬/০৬/২০২৬, ধারা-১৪৩/১৪৯/৩২৩/৩৪২/৩০২/২০১/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোডে রুজু হয় এবং মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
রংপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্তদের মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আদালতে পুলিশের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

