আব্দুল আজিজ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নে প্রাণবন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে শত বছরের পুরনো ‘তীরমনি মেলা’। প্রতি বছর স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ‘গঙ্গা স্নান’ (যা স্থানীয়ভাবে গঙ্গা চান নামে পরিচিত) উৎসবের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী মেলা আয়োজন করা হয়।
শতাব্দী প্রাচীন এই মেলায় পুণ্য অর্জনের আশা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের যেকোনো বয়সের লোকজন তীরমনি নদীতে স্নান করতে আসেন। পাপমোচন এবং পুণ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে গামী পুণ্যার্থীদের পদধ্বনিতে নদীর তীরে হৈচৈ দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলা দেখতে এবারও আশেপাশের ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছেন। যদিও ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু, কিন্তু এটি কালক্রমে এই অঞ্চলের একটি সাধারণ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই কানে আসে নাগরদোলার পরিচিত আওয়াজ এবং সকল বয়সের মানুষের আনন্দ ও হৈচৈ। এই গ্রামীণ মেলায় দর্শকদের বিনোদনের জন্য নানা আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মাটির তৈরি বাসন এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্যের দোকান।
তবে এবারের তীরমনি মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো মচমচে গরম জিলাপি এবং ১ থেকে ১.৫ কেজির বিশাল মিষ্টি! মেলার মিষ্টির দোকানগুলোতে খাদ্যপ্রেমীদের জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা নিজেদের জন্য এই বিশাল মিষ্টি এবং গরম জিলাপির স্বাদ উপভোগ করছেন, সেইসাথে প্রিয়জনদের জন্যও আনন্দের সাথে তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই মেলা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর গ্রামীণ লোক সংস্কৃতির এই অপূর্ব মিলনমেলা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরও দৃঢ় করেছে। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও গোত্র নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের এই সম্মিলন গ্রামীণ বাংলার অনন্ত এবং অসাম্প্রদায়িক রূপকে পুনরায় ফুটিয়ে তুলেছে।

