মালিকুজ্জামান কাকা:
নারী উদ্যোক্তা এবং পেশাদার রাঁধুনি লাকী নূর জাহান যশোর প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছেন, যেখনে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা অপপ্রচার, মানহানি ও ব্যবসায়িক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে লাকী নূর জাহান জানান, তিনি বহু বছর ধরে একজন পেশাদার শেফ হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন প্রশংসিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন ও পুরস্কার লাভ করেছেন।
তার অভিযোগ, মুসলিমা খাতুন নামক এক মহিলা তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করতে। তার দাবি, এই কারণে তার সামাজিক এবং পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লাকী নূর জাহান প্রকাশ করেছেন, যশোরের ধর্মতলায় অবস্থিত ‘টনি খান হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’ এ তারা দীর্ঘকাল ধরে একত্রে কাজ করে আসছিলেন। हाल ही में ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করছেন যে, তার অজ্ঞাতসারে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও মালিকানা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর এবং মানহানিকারক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদি তিনি পরিচালনা বোর্ডে দায়িত্বে না থাকেন, তাহলে কিভাবে তিনি অর্থ গ্রহণ করতে পারেন?
লাকী নূর জাহান জানান, ১৫ জুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তাকে অপমান, ভয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলোর কারণে তিনি সামাজিক, পারিবারিক এবং পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই আদালতে একটি মানহানির মামলা করেছন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মিডিয়ার কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাতজন অংশীদার একসঙ্গে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ব্যবসা ভালোই চলছিল। ২০২৪ সালে মুসলিমা তার স্বামীর সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি অন্য স্থানে স্থানান্তর করে নতুন নামে পরিচালনা করছেন।
সাত অংশীদারের বাকি সদস্যরা ঢাকা অথবা বিদেশে বসবাস করেন। তারা এই বিষয়ে প্রথমে কিছু জানতেন না। মুসলিমা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা এবং ফিরোজা খাতুন।

