মো: আল-মাহফুজ শাওন:
বাগেরহাটের মোংলায় একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাবেক বনদস্যুদের আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন একই পরিবারের সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
গভীর রাতের দিকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে দুই যুবকের ওপর নির্যাতন চালানোর পর ওই নারী প্রতিবাদ করায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, এটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করার কারণে আহত পরিবারটি বিপুল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, মোংলা পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাছমারা এলাকার নাজমা রায়হানের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার মানিক তালুকদার, তারেক বেপারী, রিংকু ডাকাত, রেজাউল করিম শুভ, মাসুম হাওলাদার ও মো. ইদ্রিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, নাজমা রায়হানের মায়ের বাড়িতে একাধিকবার চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও তারা অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মানিক তালুকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, ডাকাতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত হওয়ার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া, রিংকু হালদার ‘রিংকু ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত একটি সাবেক তালিকাভুক্ত বনদস্যু।
ভুক্তভোগী পরিবার জানাচ্ছে, গত ২১ জুন গভীর রাতে আনুমানিক দেড়টার দিকে রিংকু ডাকাত, মানিক তালুকদার ও তারেক বেপারীসহ ১০ থেকে ১৫ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নাজমা রায়হানের বোনের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নাজমা রায়হানের ছেলে শাহিন আহমেদ সানি (২৫) এবং আত্মীয় মো. নুর আলমকে (৩৫) আটক করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মারধর ও নির্যাতন করে।
পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত ভুয়া অভিযোগ তৈরির চেষ্টাও করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই যুবককে রেখে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরের সকালে ছেলেদের ওপর হামলার কারণ জানতে চাইলে নাজমা রায়হানের অভিযুক্তদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। পরে দুপুরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা নাজমা রায়হানকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে মারধর করেছে, যার ফলে তার মুখ, হাত, পা এবং পিঠের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমা রায়হান মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে রিংকু ডাকাত, মানিক তালুকদার, মো. ইদ্রিস, রেজাউল করিম শুভ, তারেক বেপারী এবং রবিউলকে প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও অভিযোগের পরে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন। তাদের কথায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। অভিযোগকারীরা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে এবং মামলার বিষয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে।
এই ঘটনায় পরিবারটি বর্তমানে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছে বলে জানিয়েছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে যে, ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

