মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:
বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রয়োজন রয়েছে নতুন এক বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার। তবে এই বিপ্লবটি কোনো বিশেষ দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের জন্য ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে নয়; বরং একটি শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার জন্য হতে হবে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঐক্যের জেলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন। এটি গণভোটের রায় কার্যকর ও জনদুর্ভোগ সমাধানের নানা দাবির সহিত ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, “ভবিষ্যতের বিপ্লব কোন ধরনের আধিপত্যের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং এটি হবে বিশ্বজুড়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে সম্মান, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য।”
তিনি দেশের তরুণ সমাজকে আহ্বান করে বলেন, “তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দলীয় প্রভাব মুক্ত বাংলাদেশের নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে। এই আন্দোলনে নেতৃত্বের দায়িত্ব যুবকদের হাতে নিতে হবে।”
বক্তৃতায় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। তারা দেশের স্বার্থের প্রতি অবহেলা করছে। আমরা তাদের আহ্বান জানাই, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জনগণের দিকে ফিরে আসুন এবং ভোটের মর্যাদা দিন।”
তিনি দাবি করেন যে, জনগণের দেওয়া রায় তাদের ওপর ছিল কার্যকর করার দায়িত্ব, কিন্তু বিভিন্ন ধরনের কারচুপি ও ভোটের কৌশল ব্যবহার করে সেই রায় প্রতিরোধ করা হয়েছে। তবে তিনি সংসদে ও আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলতে থাকবেন বলে ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যদি জনগণের দাবি সংসদে উপলব্ধি না হয়, তাহলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণআন্দোলনের আগুন জ্বলে উঠবে। সেই আগুনে সব অন্যায় ও দুর্নীতি পুড়ে যাবে।”
সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, “পুশইনের নামে একটি দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা তাদের কর্তব্য পালন করছেন এবং দেশের জনগণ তাদের শক্তির উৎসমুখ হয়ে আছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি বাংলাদেশের প্রতি অন্যায়ভাবে হাত বাড়ায়, তবে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তার মোকাবেলা করবে।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যদি জনগণ দেখে যে সরকার কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করছে, তাহলে তারা কঠোর জবাব দেবে। দেশের ২০ কোটি মানুষ আজ নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা বজায় রাখতে প্রস্তুত।”
সমাবেশে খুলনা সহ বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, জনদুর্ভোগ সমাধান এবং জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন এবং জনগণের দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।

