মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বড় হচ্ছে রাবেয়া খাতুন। মুখের ডান পাশে একটি বড় টিউমার এবং একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নেই, তবুও তার জীবনযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং দারিদ্রকে কাটিয়ে উঠে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা এলাকার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের এই তরুণী শিক্ষার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
বর্তমানে রাবেয়া খাতুন একটি স্থানীয় স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অন্যান্য ছাত্রদের মতো তারও লক্ষ্য লেখাপড়া করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং পরিবারের মুখে হাসির ঝিলিক ফেলা। তবে সে লক্ষ্য অর্জনের পথটি ক্লেশ ও কষ্টে ভরপুর।
রাবেয়ার বাবা মালেক মাতব্বর একজন দিনমজুর, যার রোজগার যথেষ্ট নয়। জন্মলগ্ন থেকেই তার মুখের ডান পাশে টিউমার রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। এখন তার একটি চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাবেয়া কখনো পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়নি।
তিনি প্রতিদিন কষ্টকে সঙ্গী করে বই-খাতা হাতে স্কুলে উপস্থিত হন। পরিবারের অভাবের মধ্যেও তিনি মায়ের গৃহস্থালির কাজে সাহায্য ছাড়াও বাবার কাজেও সহায়তা করেন। তবুও তার অনমনীয় ইচ্ছা তাকে স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
স্থানীয়রা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও রাবেয়ার শিক্ষা ও মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার সংগ্রামী জীবন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। অনেকেই তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাবেয়া খাতুন জানান, অনেকেই নানারকম কথা বললেও তিনি থেমে যাননি। তিনি পড়াশোনা করে কিছু করার পরিকল্পনা রাখছেন। যদি কেউ একটু সাহায্য করতো, তাহলে হয়তো তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতেন।
রাবেয়ার মা রোজিনা বেগম বলেন, জন্ম থেকেই আমার মেয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠছে। মুখে টিউমার থাকার কারণে ঠিক করে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। কিন্তু তিনি লেখাপড়া ছাড়তে চান না। আর্থিক অক্ষমতায় চিকিৎসার জন্য তিনি পারেননি। ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন, তাই সমাজের মানবিক ও বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
তার বাবা মালেক মাতব্বর বলেন, আমি একজন দিনমজুর, এবং আমাদের কাছে কোনো সম্পত্তি নেই। বেশ চেষ্টা করেও মেয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে আমি চাই না, মেয়ের লেখাপড়া থেমে যাক। সমাজের বিত্তবানরা যদি সহায়তা করে, তাহলে হয়তো আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারব।
পারিবারিক দাবি অনুযায়ী, রাবেয়ার দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার অপরিহার্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে, এর জন্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র অবস্থার কারণে এই পরিবার এত টাকা জোগাড় করতে অপারগ।
সমাজের মানবিক ও বিত্তবানদের সামান্য সহায়তা রাবেয়ার জীবনকে বদলে দিতে সক্ষম। একটি সহানুভূতির হাত হয়তো ফিরিয়ে আনতে পারে তার হাসি, তার স্বপ্ন এবং নতুন করে বাঁচার আশা।
রাবেয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগের নম্বর, ০১৭৭১৭৫৪৭৫৭
