মো: রিয়াদ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার পুলিশ তিনটি আলাদা ডাকাতি মামলার তদন্তে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ১২ বোর শটগান, ৩৮ রাউন্ড গুলি, একটি এয়ারগান, একটি ওয়াকিটকি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, চারটি মোবাইল ফোন এবং জাল অস্ত্র লাইসেন্স তৈরির সিলমোহরসহ নানা আলামত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি চীনা প্রতিষ্ঠানে গানম্যান পদের জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে কিছু চাকরির প্রত্যাশী আবেদন করেন। এরপর প্রতারকদের একটি চক্র তাদের চাকরিতে নিয়োগের কথা বলে ১৭ জানুয়ারি, ১০ এপ্রিল ও ১৯ জুন ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে মরিচের গুঁড়ো তাদের চোখ ও মুখে ছিটিয়ে রূপগঞ্জের আলমপুরা ভূঁইয়া ব্রিজের কাছে সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত চারটি শটগান, ২৯ রাউন্ড গুলি, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এই ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানায় তিনটি ডাকাতি মামলা এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শুরুর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম প্রযুক্তি এবং গোপন তথ্যের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।
পরে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ঢাকার ভাটারা, বাড্ডা ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের চার সদস্যকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাসিম উদ্দিন মোল্লা (৩০), রমজান আলী (৩১), মো. সিরাজুল ইসলাম (৩২) এবং ইব্রাহিম শেখ (৩১)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতদের কাছ থেকে দুটি লুণ্ঠিত শটগান ও ৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, একটি এয়ারগান, একটি ওয়াকিটকি, চারটি মোবাইল ফোন এবং জাল অস্ত্র লাইসেন্স তৈরির সিলমোহর জব্দ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
পুলিশ জানায়, পালাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং বাকিদের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

