মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের হোয়াব্রাং এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (০৫ জুলাই) দিনভর ভারী বর্ষণের কারণে এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও মুজিব বর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো। অনেক ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে খাল-নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ উপচে পড়ে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পেরে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়।
এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে।বিশেষ করে মুজিব বর্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বসবাসকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় রান্নাবান্না, ঘুমানো এমনকি দৈনন্দিন জীবনযাপনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষ। তারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তবে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই হোয়াব্রাং এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।এলাকাবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের হোয়াব্রাংসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে পরিস্থিতির দিকে উদ্বেগ নিয়ে তাকিয়ে আছে পুরো এলাকা।

