এরশাদ রানা (কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি):
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকার উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়ক বিভাজকের ভিতর বিভিন্ন ধরনের ২৫টি গাছ কাটা হয়েছে বিলবোর্ড দৃশ্যমান করার উদ্দেশ্যে।
এর ফলে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচলে চালকদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। এরইমধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে সড়ক ও জনপথের কার্য সহকারী মোঃ মোবারক হোসেন ভূঁইয়া চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সড়ক ও জনপথ কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নত করার সময় বিভাজক নির্মাণ করা হয়েছিল। রাতের সময়ে গাড়ির চালকদের সুবিধার জন্য সওজ বিভাগ বিভাজকের ভেতর হেমন্তি, কুর্চি, টগর, রাধাচূড়া, কাঞ্চন, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, পলাশ, কবরী, কেসিয়া ও জারুল গাছ লাগিয়েছিল। এই গাছগুলো গত কয়েক বছরে প্রচুর বড় হয়ে ওঠেছে। ফলে রাতের সময় মহাসড়কের বিপরীত দিক থেকে আগত গাড়ির হেডলাইট অন্য গাড়ির চালকদের চোখে পড়ে না। এর ফলস্বরূপ সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিভাজকের মাঝে থাকা গাছগুলোর পল্লব ও মৌসুমী ফুল মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে সামুকসার মহাসড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একদল অপরাধী রাতের অন্ধকারে বিভাজকের বড় এলাকা জুড়ে ২৫টিরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়েছে। সামুকসার এলাকায় শাহনেওয়াজ ব্রিকস ও ফিল্ডের সামনে মহাসড়কের ঢাকা মুখী লেনের পাশে দুটি দিকে একটি বড় ক্রাউন সিমেন্টের বিলবোর্ড দেখা যায়।
বিভাজকের গাছগুলোর পল্লবের কারণে চট্টগ্রাম মুখী লেনের গাড়িগুলো চলাকালীন বিলবোর্ডটি দেখা যায় না। এই কারণে বিলবোর্ডটি স্পষ্ট হওয়ার জন্য বিভাজকের গাছগুলো কাটা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, শাহনেওয়াজ ব্রিকস ও ফিল্ডের পাশে ঢাকামুখী লেনে একটি বিলবোর্ড রয়েছে। বিভাজকের গাছগুলো বেশ বড় হয়ে যাওয়ায় সড়কপথের উভয় পাশ থেকে বিলবোর্ডটি চোখে পড়ে না। স্থানীয় রুবেল নামের একটি ব্যক্তি বিলবোর্ডটির দেখাশুনার দায় বহন করে, ও তিনি শ্রমিকদের দিয়ে বিভাজকের গাছগুলো রাতের অন্ধকারে কেটে নিতে বলেন। এ সম্পর্কে গাছগুলো কেটে নেওয়া শ্রমিক মোঃ জাফর জানান, আমি রুবেল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে ৮০০ টাকা মজুরিতে গাছগুলো কাটার জন্য তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি। গাছগুলো কেন কাটা হলো, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাইনবোর্ড (বিলবোর্ড) দৃশ্যমান করার জন্য এসব গাছ কাটা হয়েছে।
গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ কুমিল্লার কার্য সহকারী মোঃ মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিভাজকের অঞ্চলে থাকা ২৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা কেটে নিয়েছে। এই ঘটনায় আমি চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোছাইন বলেছেন, মহাসড়কের সামুকসার এলাকায় বিভাজকের গাছ কাটা নিয়ে সওজ কর্মকর্তা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ দোষীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের জন্য অভিযানের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

