এম এস কামাল, বরিশাল:
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত বিপদের মধ্যে শিশুদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে স্থানীয় অঞ্চলে সহনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) একটি দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালনা করেছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল। কর্মশালায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সদস্য, অভিভাবক, সাঁতার প্রশিক্ষক, আঁচল মা (শিশু যত্ন কেন্দ্রের যত্নকারী), গ্রাম ভিত্তিক ইনজুরি প্রিভেনশন কমিটির সভাপতি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা মিলিয়ে মোট ২৪ জন অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইউএনও মিল্টন চন্দ্র পাল মন্তব্য করেন, “সাঁতার শিখলে প্রশিক্ষকের মাধ্যমে শিশু নিজের এবং অন্যদের জীবন রক্ষায় এটি ব্যবহার করতে পারবে। এদিকে, শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও কার্যকরভাবে চালু রাখা প্রয়োজন।” তিনি স্থানীয় অভিজ্ঞতার আলোকে সকলকে অনুরোধ করেন যে, যেকোনো অবস্থায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং আঁচল কেন্দ্রগুলি সচল রাখতে সকলে সহযোগিতা যেন করেন।
কর্মশালায় উপস্থাপিত ডেটা অনুসারে, সিআইপিআরবি ২০১৬ সাল থেকে বরিশাল বিভাগে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রতিরোধে ‘ভাসা’ ও ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্প কার্যকর করছে। সংস্থার অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে, শিশুদের নিরাপদ রাখা এবং ডুবে মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও বেশি স্থায়ী করে তোলার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যকর কৌশল তৈরি করা হয়।
সিআইপিআরবি জানায়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে বাকেরগঞ্জে ৫০টি আঁচল বা শিশু যত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঁচ বছরের নিচের প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিশুকে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া, চলতি বছরে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ২ হাজার ২০০ শিশুকে সাঁতার শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের ফলে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে কার্যকর এবং টেকসই পদক্ষেপ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

