মোঃ আব্দুল্লাহ শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলব্ধি করে বাগেরহাটে কথোপকথনের বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে বিশালাকৃতির গরু ‘কালু’ এবং ‘ধলু’। ‘কালু’কে জেলায় সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মণের ওজনের এই গরুর জন্য দাবি করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। একই খামারে পালিত অন্য এক বিশাল গরু ‘ধলু’র জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খাওলিয়া গ্রামের “তাজু ডেইরী ফার্ম” এ দুইটি গরুকে লালন-पालন করা হয়েছে। খামারীর নাম তাজুল ইসলাম, তার মতে, ফ্রিজিয়ান জাতের ‘কালু’ বর্তমানে জেলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গরুদের মধ্যে একটি। একই খামারের ‘ধলু’রও প্রায় ২৫ মণ ওজন।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, যে কেউ ‘কালু’ বা ‘ধলু’ কিনবে, তাকে উপহার হিসেবে দুটি ছাগল দেওয়া হবে, যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
খামার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ দেখে এই বছর বিশেষভাবে ‘কালু’ ও ‘ধলু’কে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আকার ও গড়নের দিক থেকে ‘কালু’ অন্যান্য গরুদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। প্রতিদিন বহু লোক দূর-দূরান্ত থেকে এই দুই গরু দেখতে আসছেন। কেউবা ছবি তুলছেন আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, জন্মের সময় ‘কালু’র ওজন ছিল প্রায় দুই মণ। মাত্র ৩৫ মাসের মধ্যে তার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ মণে পৌঁছেছে। তারা দাবি করেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি পালন করা হয়েছে।
গরু দেখতে আসা একজন দর্শক বলেছেন, বাগেরহাটে এত বড় গরু আগে কখনও দেখেননি। ‘কালু’কে দেখার জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন আসছেন। অনেকেই দূর থেকে এসে ছবি তুলছেন এবং গরুটির আলোচনা করছেন।
খামার মালিক তাজুল ইসলাম জানান, জীবনে প্রথমবার এত বড় গরু পালন করছেন। প্রায় ৩৫ মাস ধরে তিনি গরুটিকে নিজের সন্তানের মতো যত্নশীল সহায়তা দিয়ে বড় করেছেন। গরুটি এত বড় হয়েছে যে গোয়াল থেকে বের করতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি আশাবাদী যে সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে দর দাম করছেন।
তিনি আরও বলেন, গরু দুটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে, যেখানে কুড়া, ভুসি এবং কাঁচা ঘাস দেওয়া হয়েছে। কোনো হাইব্রিড খাবার ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন ভোরে উঠে গরুর স্থান পরিষ্কার করা, গোসল করানো এবং নিয়ম মেনে খাবার দেওয়া হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছায়েব আলী জানিয়েছেন, জেলায় কোরবানির জন্য মোট প্রস্তুত গবাদিপশুর সংখ্যা হচ্ছে ৮৪ হাজার ৯৬৭টি। এর মধ্যে জেলার চাহিদা হলো ৭৭ হাজার ৮৮৯টি পশুর। চাহিদা পূরণের পর ৭ হাজার ৭৮টি অতিরিক্ত গবাদিপশু থাকবে।
তিনি বলেন, জেলার অধিকাংশ গরুই ছোট এবং মাঝারি আকারের হলেও কিছু বড় গরুও রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মোরেলগঞ্জের একটি খামারে থাকা দুটি গরুর মধ্যে একটির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি এবং অপরটির ওজন প্রায় ১ হাজার কেজি।
