ঈদে নিরাপদ যাত্রায় পুলিশের পরামর্শ

ঈদে নিরাপদ যাত্রায় পুলিশের পরামর্শ

মোঃ আল মুনতাকিম:

পবিত্র ঈদুল আজহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নেওয়া, দ্রুত গতিতে গাড়ি না চালানো, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রা না করা, ট্রেন ও নৌযানে নিরাপত্তা, পশুর হাটে লেনদেনের সময় নজরদারি করা অন্তর্ভুক্ত।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকুন:
যারা ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগেই ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ এবং ফেরির ঘাটে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে। জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে, অথবা ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন না।

গাড়ি চালকের উপর চাপ দেবে না যেন দ্রুত গাড়ি চালাতে না হয়। চালক যেন নিয়ম মেনে চলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ ব্যক্তিদের গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখুন।

হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল পরিহার করুন। হাইওয়ে জুড়ে ফিটনেসবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকুন।

ট্রেনে যাত্রা করার সময় পাথর নিক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক থাকুন; মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বিনা টিকেটে ট্রেনে যাত্রা না করতে দৃঢ়ভাবে মনে রাখবেন।

অবৈধ আবহাওয়ার সময় জীবন ঝুকি নিয়ে নৌযানে যাত্রা করা থেকে দুরে থাকুন। দুর্ঘটনার শিকার নৌযান শনাক্তের উদ্দেশ্যে নৌযান মালিকদের নৌযানগুলিতে ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়ি এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। লঞ্চ ও ফেরিতে উঠানামার সময় বিশেষ যত্ন নিন।

ভ্রমণের সময় অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং প্রতারকদের দিকে সচেতন থাকুন। যদি কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক সন্দেহ হয় তবে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করুন বা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন। অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকুন।

কোরবানির পশু সংক্রান্ত নির্দেশনা:
ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই করবেন না। মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসানো থেকে বিরত থাকুন।

পশুর হাটে নির্দিষ্ট পরিমাণে হাসিল পরিশোধ করুন। কেউ যদি অতিরিক্ত হাসিল বা চাঁদা দাবি করে তবে নিকটস্থ পুলিশকে জানাবেন।

পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য বা পশুর হাটের নাম লেখা ব্যানার স্থাপন করুন। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গন্তব্যস্থল ছাড়া কোথাও থামতে পারবে না।

সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর চামড়াবাহী যানবাহন যদি সীমান্তের দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টা করে তবে সেগুলো পাচারের সম্ভাবনা থেকে থাকে। এ ধরণের সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে পারেন বা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন। কোরবানির পশু বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করবেন না।

পশুর হাটে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন:
পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের জন্য পুলিশের সহায়তা (কারেন্সি এস্কর্ট) নিন যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা হয়।

জাল টাকার ব্যাপারে সচেতন रहें। এর সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলুন। যদি কোনো নোট জাল মনে হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ পুলিশকে জানান।

বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সচেতনতা রাখুন। কখনোই আপনার গোপন পিন নম্বর কাউকে দেবেন না।

শপিংমল এবং মার্কেটের নিরাপত্তা:
শপিংমল এবং মার্কেটের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি, আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার করুন।

প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করুন: ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৮২৫৯৮, রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৭৭৫৯৮, নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: ০১৩২০১৬৯৫৯৮, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব): ০১৭৭৭৭২০০২৯ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।