সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ওসমানী মেডিকেলে আহতদের দেখতে গিয়ে সহায়তার ঘোষণা—নিহতের পরিবার পাবে ৫ লাখ, পঙ্গুত্ববরণকারীরা ৩ লাখ, আহতরা পাবেন ১ লাখ টাকা।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থার খবর জানার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল হাসপাতালে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার সব বিষয়ে খোঁজ নেন।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন মারা গেছে এবং অনেক আহত হয়েছেন, তাই মন্ত্রী সেখানে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন আহতদের পাশে কিছু সময় কাটান। আহতদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের থেকে বিস্তারিত জানেন।
এ সময় মন্ত্রী আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। স্বজনদের শান্তনা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে একা থাকতে হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ, পঙ্গুত্ববরণকারীরা ৩ লাখ
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ববরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং আহত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মানুষকে হারানোর ক্ষতি কোন অর্থ দিয়ে পূরণ করা যায় না। একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে বা কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করলে ওই পরিবারের উপর দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ নেমে আসে। সরকারের এই অর্থ সাহায্য সেই ক্ষতি পূরণের বিকল্প নয়; বরং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সমস্যার কিছুটা সমাধান করা একটি মানবিক উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসায় অবহেলা নয়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সমুচিত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী। গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কোন ধরনের অবহেলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্ত্রী তাদের স্বজনদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে মানবিক ভূমিকায় আসার আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা
এ সময় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চিকিৎসক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মন্ত্রীকে আহতদের চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান এবং হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরেন।
মন্ত্রীকে হাসপাতালে আহতদের পাশে দেখতে পেয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। তারা আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত অর্থ সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সড়কে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের অশ্চেতনা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণ মানুষের দাবি, শুধুমাত্র দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ দিলেই হবে না—দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া দাবি করেছে সাধারণ মানুষ।

