মাতৃভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আসামে দিনব্যাপী শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান ও মিছিল

মাতৃভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আসামে দিনব্যাপী শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান ও মিছিল

আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম:

মাতৃভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে আজ আসামের কাছাড় জেলায় এআইডিএসও, এআইডিওয়াইও, এআইএমএসএস এবং কমসোমল এর কাছাড় জেলা শাখা একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১৯৬১ সালের ১৯ মে মাতৃভাষার স্বীকৃতি রক্ষার জন্য শিলচরে আত্মবলিদান দেওয়া এগারো বীর সন্তানের স্মৃতির মর্যাদা বজায় রাখতেই আজ এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আজ ভোর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। সকাল ৬ টার সময় সংগঠনের প্রতিনিধিরা শিলচর রেলস্টেশনের কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদ স্তম্ভে মিলিত হয়ে ফুল দেওয়া শুরু করেন। এর পর সকাল ৮ টায় শিলচর শ্মশান ঘাটের শহীদ স্মারকের কাছে পুষ্পার্ঘ্য সমর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দুপুর ১.৩০ টায় শিলচরের রাঙ্গিরখাড়ি থেকে এক বিশাল ও সাজানো মিছিলে যোগদান করেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন রাস্তা ধরে এগিয়ে গিয়ে গান্ধীবাগস্থ মূল শহীদ মিনারে পৌঁছায়। সেখানে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন এআইডিএসও-এর আসাম রাজ্য কমিটির সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য, এআইডিওয়াইও-এর জেলা সভাপতি দীলিপ কুমার রী, এআইএমএসএস-এর রীম্পী বাগতি, এআইডিএসও-এর জেলা সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিকেল ৩ টায় শিলচরের ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে একটি যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শহীদদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গণসংগীত, নৃত্য পরিবেশন এবং আবৃত্তি হয়। সেখানে কোরাস সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং এআইডিএসও-এর পক্ষ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথনাটক প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এআইডিএসও-এর রাজ্য সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য এবং দীলিপ কুমার রী। বক্তারা ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা এবং বর্তমান সময়ে ভাষার গুরুত্ব রক্ষার উপর বিস্তৃত আলোচনা করেন। সংগঠনের নেতৃত্ব জানান, শহীদদের এই আত্মত্যাগ বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মকে নিজেদের অধিকার এবং ভাষার জন্য সংগ্রামে সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।