বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে নির্ধারিত চূড়ান্ত আলোচনার আগে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যেই বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয় এবং জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই ধাপে ধাপে প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। সংঘাত চলাকালে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে। ভারত ও পাকিস্তানের কিছু জাহাজ বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় সীমিতভাবে চলাচল করতে পারলেও সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পথটি প্রায় বন্ধই ছিল।
সম্পূর্ণ চালুর আগে বুধবার থেকেই সীমিত পরিসরে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এর জন্য নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান ও ওমান।
এখন থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজকে উচ্চমূল্যের ট্রানজিট ফি দিতে হবে। দুই দেশের সমন্বয়ে এই ফি নির্ধারণ ও আদায় করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি চাওয়া হতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো জাহাজ এই অর্থ দিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
