রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের অবস্থা দেখে মনে করছেন, এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতকে ইতোমধ্যেই কিছু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করেছেন।
পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য ও সংঘাত
লাভরভের মতে, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য ধরে রাখার প্রচেষ্টার ফল। তিনি অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ—বিশেষ করে রাজনৈতিক এলিটরা—রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যয় করছে।
লাভরভ আরও জানিয়েছেন, আফ্রিকার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আগামী অক্টোবর মাসে মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লাভরভ বলেন, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি রাশিয়াকে চিন্তিত করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর কঠোর সামরিক আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন।
লাভরভ সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইরান এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধান প্রয়োজন
লাভরভ মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধান শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থ ও ঐক্যের ভিত্তিতে সমাধানই এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
কিউবা ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থান
কিউবা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লাভরভ। তিনি বলেন, কিউবার সার্বভৌম উন্নয়নের অধিকারকে রাশিয়া সমর্থন করে এবং দেশটিকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে রাশিয়ার ভূমিকা
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সমস্যার ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, কিউবা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে রাশিয়ার পদক্ষেপ এই সংকট মোকাবিলা করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
