যুক্তরাষ্ট্রে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্ট মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের বর্ডার জার টম হোমান রোববার (২২ মার্চ) জানান, সোমবার (২৩ মার্চ) থেকেই এই কার্যক্রম চালু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে আইস এজেন্ট নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) ও লাগার্ডিয়া, নিউয়ার্ক, ফিলাডেলফিয়া, শিকাগো, আটলান্টা, নিউ অরলিন্স, হিউস্টন এবং ফিনিক্সসহ আরও কয়েকটি শহরের বিমানবন্দর রয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইস এজেন্টরা সরাসরি যাত্রী তল্লাশিতে যুক্ত থাকবেন না। তারা মূলত প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তদারকিসহ সহায়ক দায়িত্ব পালন করবেন। এতে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মকর্তারা নিরাপত্তা তল্লাশির মূল কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন, ফলে লাইনের চাপ কমার আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে আংশিক সরকারি শাটডাউন বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে অনেক টিএসএ কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, যা জনবল সংকট তৈরি করেছে এবং সেবায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্যোগকে ‘অভূতপূর্ব পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা ও হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিজ বলেন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া আইস এজেন্টদের বিমানবন্দরে দায়িত্ব দিলে তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আইস ও টিএসএ কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এজেন্টদের সীমিত ভূমিকা কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, আবার কেউ বলছেন এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন। অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আইস এজেন্টদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেননি।
টম হোমান জানান, আইস এজেন্টরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও তদন্তমূলক কাজে অভিজ্ঞ। তবে ঠিক কতজন এজেন্ট কোথায় কাজ করবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রশাসনের আশা, এই সাময়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের চাপ কমবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
