টলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নতুন বিতর্ক

টলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নতুন বিতর্ক

টলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের ব্যক্তিগত জীবন ফের নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আচরণ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবিও।

সুন্দরবনের প্রান্ত থেকে উঠে আসা সুস্মিতা অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা করে নেন ‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং এবং ব্যবসায়ও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

২০২৫ সালের ২০ মার্চ, নিজের জন্মদিনে সুস্মিতা এবং সব্যসাচী বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা যৌথ বিবৃতিতে জানান, পারস্পরিক মতভেদের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তীতে তাদের পরিবারও এই তথ্য নিশ্চিত করে।

বিচ্ছেদের কিছুদিন পরই আবারও সমালোচনার আলোচনায় আসেন সুস্মিতা। চলতি মাসে সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের ছবি শেয়ার করে নতুন জীবন শুরু করার ইঙ্গিত দেন তিনি। এরপর সাবেক স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে হুমকির অভিযোগ তোলেন। লাইভে এসে সুস্মিতা জানান, চক্রবর্তী পরিবার এখনও তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিচ্ছে। সেই সময় তিনি তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিগত বিয়ে সম্পর্কে খোলামেলা মন্তব্যও করেন।

এছাড়া, সুস্মিতা সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, এতদিন এসব সহ্য করেও সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু অবশেষে বিচ্ছেদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, সব্যসাচী চক্রবর্তী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেছেন, সম্পর্কের সমস্যার মূল দায় সুস্মিতার। তিনি নিজের পক্ষ থেকেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। সব্যসাচীর বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং অশান্তিই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ সুস্মিতার সমর্থনে, কেউ সব্যসাচীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, অতীতের অভিযোগ-প্রতিআরোপের বাইরে গিয়ে দু’পক্ষকেই নতুন জীবন এবং নিজের কাজের উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *