মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনাঃ
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উভয়ই কমেছে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকেও বের হয়ে সঠিক মূল্যায়নের গুরুত্ব বজায় রাখা হয়েছে। ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমেছে। তবে ফলাফল মোট কথা সন্তোষজনক।
তিনি আরও জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৪ হাজার ১৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। মানবিক বিভাগে পাস করেছে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৯ হাজার ২৪৬ জন।
এবার মোট ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ হাজার ৮০৯ জন ছেলে এবং ৫ হাজার ৩২৭ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মানবিক বিভাগে ১৭৯ জন ছেলে ও ৭৯২ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩৯ জন ছেলে এবং ২৩২ জন মেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
গত বছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫
তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী।
সেদিকে তাকালে, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩২ জন কমেছে।
বেড়েছে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান
এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯টি বেড়েছে।
অন্যদিকে, এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ফলাফলের এই চিত্র শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশ ও ফলাফল উন্নয়নে সাহায্য করবে।

