সৈয়দ আমান উল্লাহ্,স্টাফ রিপোর্টার:
জৈন্তাপুরে সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাঠ প্রশাসনের তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় অনিয়মকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সতর্কতা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ ২৫ আগস্ট উপজেলার ১ নম্বর নিজপাঠ ইউনিয়নের বড়গাং এলাকায় ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি নৌকা জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন, কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও সরকারি সম্পদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের মধ্যে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অবৈধ পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা জব্দ ও বিনষ্ট করার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
তবে প্রশাসনের এই তৎপরতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিই হবে জনআস্থার মূল পরীক্ষা। ব্যক্তি বা প্রভাব নয়, সরকারি আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতেই প্রতিটি অভিযান পরিচালিত হলে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড়গাংসহ উপজেলার অন্যান্য নদী ও বালুমহাল এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। বৈধ ইজারার সীমারেখা অতিক্রম করে কেউ যাতে বালু উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়েও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। ফলে এখন দেখার বিষয়, আজকের এই অভিযান একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জৈন্তাপুরের নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করে।
জৈন্তাপুরবাসীর প্রত্যাশা একটাই—সরকারি সম্পদ থাকবে সুরক্ষিত, নদী থাকবে নিরাপদ; আর আইনের প্রয়োগ হবে নিরপেক্ষ, দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক।

