কুড়িগ্রামে নদীভাঙন আতঙ্ক, স্কুল বাঁচাতে শিশুদের মানববন্ধন

কুড়িগ্রামে নদীভাঙন আতঙ্ক, স্কুল বাঁচাতে শিশুদের মানববন্ধন

মোঃ আলমগীর হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার:

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের সংযোগ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে চলমান এই ভাঙন ঠেকাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন। এতে শত শত নারী-পুরুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যারা তাদের বিদ্যালয় রক্ষার দাবিতে সরব হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট উদ্বেগ। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিমা আক্তার আবেগভরা কণ্ঠে বলে, “আমাদের স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা কোথায় পড়ব?” একই সুরে সহপাঠী রাব্বি জানায়, “আমরা আমাদের স্কুল বাঁচাতে চাই।”

নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে গভীর উৎকণ্ঠা। প্রবীণ বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটাই আমাদের শেষ সম্বল, এটা হারালে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।” একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা ও শাহাবুর রহমান। স্থানীয় নওশের আলী বলেন, “প্রতিবছর ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়ংকর।”

স্থানীয়দের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।

বক্তারা দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। প্রতিদিনই নদী গিলে নিচ্ছে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।