আলীকদমে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছে দুর্গম কুরুকপাতায়

আলীকদমে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছে দুর্গম কুরুকপাতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, আলীকদম (বান্দরবান):

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।  জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত দুই দিনে অন্তত ১৫ শিশু আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার হামের লক্ষণ নিয়ে চাংমুম ম্রো (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত।

অনাথ আশ্রমটির পরিচালক উথোয়াইংগ্যো মারমা জানান, মঙ্গলবার রাতে জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ চাংমুমের অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহে আশ্রমটির প্রায় ৪০ শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩ জনকে ভর্তি করা হয়।

এদিকে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি ও বড় ব্যাটি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু শিশু হামের উপসর্গে ভুগছে। তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামের কারণে হয়নি।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. হাসান জানান, গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ১৫ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ১৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ চাংমুম ম্রোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে বিশেষ “ক্র্যাশ প্রোগ্রাম” চালু করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মী দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে নিয়ে আসবে।

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *