গরম বাড়তেই নাগেশ্বরীতে তীব্র লোডশেডিং, তথ্যে গরমিলের অভিযোগ

গরম বাড়তেই নাগেশ্বরীতে তীব্র লোডশেডিং, তথ্যে গরমিলের অভিযোগ

মোঃ আলমগীর হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার:

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় লোডশেডিং পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বাস্তব চিত্র সরকারি তথ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

এপ্রিল থেকে জুন সময়কালকে বিদ্যুতের চাহিদার শীর্ষ মৌসুম ধরা হয়। চলতি বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে তাপমাত্রা না কমলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

দেশে বর্তমানে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটে ১৮টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আরও ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে চলছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও উৎপাদন সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে।

লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যান নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পিডিবির তথ্যের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর তথ্যের মিল নেই। পিজিসিবি যেখানে তুলনামূলক কম ঘাটতির কথা বলছে, সেখানে আরইবির তথ্যে পরিস্থিতি অনেক বেশি সংকটপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। এতে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলছেন বিভিন্ন মহল।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা সেচ দিতে সমস্যায় পড়ছেন এবং শিল্পখাতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস ও তেলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *