লোহাগড়ায় জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

লোহাগড়ায় জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

খন্দকার আলী আবীর, নড়াইল:

লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে জমির বিষয় নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ নাজমুল ইসলামের আবাসে হামলা চালানো, চাঁদার দাবি এবং নারীদের প্রতি মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম তুলি, তার স্বামী মিজানুর মোল্যা এবং ভাই তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ১১টার সময়ে কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী নাজমুলের মাতা সালেহা বেগম জানিয়েছেন, “ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ দাগের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে আমাদের এবং একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলি, তার স্বামী মিজানুর মোল্যা ও ভাই তরিকুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে মতভেদ চলছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে যাওয়ার পর আমি মালিকানা সমর্থনে রায় পেয়ে যাই। কিন্তু আদালতের রায় উপেক্ষা করে তারা ওই ২ শতাংশ জমি দখল করার চেষ্টা করলে আমি ও আমার পরিবার প্রতিবাদ করি।

এর আগে তারা আমাদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়েছে এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে সোমবার বিকেলে তারা আমাদের বাড়িতে এসে মারধর করে এবং আমাদের একজন মেয়েকে আঘাত করে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে আমি দ্রুত লোহাগড়া থানায় অভিযোগ করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আমি প্রশাসনের নিকট ন্যায়বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী নাজমুলের চাচাতো বোন হাসিবা আক্তার বলেন, “যখন আমি ঘটনার স্থলে উপস্থিত হই, হামলাকারীরা আমাকে মারধর করে এবং আমার কাছে থাকা এন্ড্রুয়েড ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর আগে মামলার আশ্রয় নিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছি। আমরা এসব ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই।”

এই বিষয় সংক্রান্ত লোহাগড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা অজিত কুমার রায় বলেন, “সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় খবর পাওয়ার পর। তবে ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”