বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপালে একটি জমি বিরোধের ফলস্বরূপ একই পরিবারের তিনজন, যার মধ্যে একটি মহিলা রয়েছে, মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই ঘটনায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মনোজ কুমার বৈরাগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মে ২০২৬ সালের রাতে প্রায় ১১টার দিকে রামপাল থানার চণ্ডিতলা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্তের বাড়ির উঠান ও প্রধান ঘরে হামলার এই ঘটনা ঘটে।
চণ্ডিতলা গ্রামের মৃত অমর কৃষ্ণ বৈরাগীর সন্তান মনোজ কুমার বৈরাগী (২৯) তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, পৈতৃক ও ইজারাকৃত মাছের ঘের জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফকির আবু বক্কার ছুট্টি (৪০) এবং তার স্ত্রী রুবা বেগম (৩৫) এর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আসামীরা তা অগ্রাহ্য করেছে।
মনোজ কুমার বৈরাগী অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আসামীরা লোহার রড, দা এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, আসামীরা ধারালো দা দিয়ে তার বোন সিমা মন্ডল (২৮)-এর মাথায় আঘাত করে যা সিমার মাথার বাম দিকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম তৈরি করে। এরপর একি দা দিয়ে সিমার নাকের বাম পাশে আরেকবার কোপ দেয়া হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, আসামী রুবা বেগম লোহার রড দিয়ে তার মা শান্তি রাণী বৈরাগী (৬০)-এর কোমর, পিঠ ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে এবং তাকে নৃশংসভাবে পেটাতে থাকে। আসামীরা সিমা এবং তার মায়ের পরিধান করা কাপড় ছিঁড়ে তাদের অসম্মানিত করার চেষ্টা চালায়।
এ সময় আসামীরা বসতঘরের দরজাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে প্রায় ৭,৫০০ টাকার ক্ষতি করে এবং ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে ১৫,৩০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
মনোজ কুমার বৈরাগী মন্তব্য করেন, “আমি আইনকে সম্মান করি। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আসামীরা আমাদের পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে হুমকি দেয়। ওই রাতে তারা পরিকল্পনা করে ঘরে প্রবেশ করে আমার মা এবং বোনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর ক্ষতি করে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাজিব আল রশিদ জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। একজন আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।”
