মাকে হারিয়ে বিপর্যস্ত শিশু আরিয়ানের জীবন

মাকে হারিয়ে বিপর্যস্ত শিশু আরিয়ানের জীবন

মালিকুজ্জামান কাকা:


ডাক নাম আরিয়ান। আসল নাম তাহমিদ জামান। বয়স মাত্র দশ বছর। পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। যশোর শহরের ৫ নম্বর চোরমারা দীঘির পাড়ে তার বাড়ি অবস্থিত। কিন্তু এই সময়েই তাকে জীবনযুদ্ধে শরিক হতে হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া কিছুই সঠিক সময়ে হচ্ছে না। সব কিছু থাকা সত্ত্বেও যেন তার কিছু নেই।

আরিয়ানের মা এখন আর নেই। কেউ জানে না মা কোথায় আছেন। সংসার ত্যাগ করে তিনি অন্যদের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। কী কারণে তিনি সেখানে আছেন, তা আরিয়ান জানে না এবং তার পিতা আশরাফুজ্জামানও কিছুই জানেন না।

সাত মাস আগে একবার বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল আরিয়ান এর মা শাহানাজ বেগম। এক মাস আগে আবার তিনি গভীর রাতে গোপনে তার কন্যা খাদিজা জামান অনিকার সঙ্গে কোথাও হারিয়ে গেছেন। বাবার সঙ্গে খুঁজতে গিয়ে ছোট আরিয়ানও অস্থির হয়ে পড়েছে। এমন কোন আত্মীয় নেই যারা তাদের বাড়ি খুঁজে দেখে। অথচ পরিবারের কোন কিছুর অভাব নেই।

শিশু আরিয়ান জানায়, তাকে বাবার সঙ্গে থাকতে হচ্ছে। তার বাবা কাজ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ঠিকাদারি ও সম্পৃক্ত কাজ রয়েছে। কিন্তু ছেলেকে একা বাড়িতে রেখে যাওয়ার কোন উপায় নেই।
স্থানীয়রা জানায়, আরিয়ানের খালু যশোর সদর উপজেলার নাসির উদ্দীন মোড়ল, আরিয়ানের মা কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন তার সম্পর্কে জানেন। এতে তার স্ত্রী মমতাজও জড়িত। এমনকি মমতাজের ফুফাতো বোন মুসলিমা বেগম এবং আমেনা বেগমও এই বিষয়ে কিছু জানাতে চাচ্ছেন না। মুসলিমার স্বামী হান্নান প্রফেসরও কিছু না বলে স্ত্রীর পক্ষে সংসার ভাঙানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরিয়ানের মা শাহানাজ বেগম স্বামীর শহরের বাড়ি বিক্রি করতে চাপ দিতে চাইছিলেন। তা না হলে তিনি সংসার ত্যাগ করে চলে গেছেন।
আরিয়ানের পিতা আশরাফুজ্জামান বলেন, ২৭ বছরের সংসার। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে গেছে। লোভের কারণে, অন্যের কান ভাঙানি শুনে আরিয়ানের মা চলে গেছেন। কন্যা এবং মাতা নেই।

ছেলের শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের নিজেদের রান্না করতে হচ্ছে, হোটেলে খাবার খেয়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। তাদের সংসার এখন অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে। খাদিজা জামান অনিকা ও আরিয়ানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার এখন স্থবির। যাকে বলা হচ্ছে এলোমেলো অবস্থা।

সমাজের নেতারা বলছেন, বাংলার প্রায় সব গ্রাম ও মহল্লায় বর্তমানে গৃহবধূরা কান ভাঙানি শুনে সংসার ত্যাগ করছে। এতে ছেলে-মেয়ে এবং পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ লুপ্ত হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। এসব নারীদের এবং তাদের মন্দ পরামর্শদাতাদের শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু এই বিষয়ে আইন আছে কিনা, তা যেমন আসিফুজ্জামান জানেন না, তেমনিভাবে শিশু

আরিয়ান এখনও যথেষ্ট বুদ্ধিমান হয়নি জীবনের এই পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে। দুর্ভাগ্য মেয়ে আরিয়ান। শুরুর দিকে তার শিক্ষার ক্ষেত্রে এখন কঠিন সংকেত দেখা যাচ্ছে। হয়তো সে আরেকটি শিক্ষার্থী হয়ে যাবে। অত্যন্ত করুণ পরিস্হিতি।