এসকে এম মহসিন রেজা, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল হোল্ডিং কার্ড দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের থেকে প্রতিটি পরিবারের জন্য ১৫০ টাকা করে নেওয়া হলেও দুই বছর পরেও কোন বাসিন্দা হোল্ডিং কার্ড পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিজিটাল হোল্ডিং কার্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ডের কার্ড তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কার্ড বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে কার্ডগুলো অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
কার্ডগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম দেখানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের পর চেয়ারম্যান এলাকায় না থাকায় চেয়ারম্যানের নাম যুক্ত এসব কার্ড বর্তমান প্রশাসন বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করেনি।
অন্যদিকে, বাকি চারটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তাদের হোল্ডিং কার্ড তৈরি করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কার্ড তৈরির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও অস্তিত্ব নিয়েও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদে জমা থাকা প্রস্তুত কার্ডের QR কোড পরীক্ষা করেও কোন কার্যকর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। ফলে কার্ডগুলো আসলে ডিজিটাল হোল্ডিং কার্ড হিসেবে কার্যকর কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক চৌকিদার জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পরিবর্তনে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের নাম থাকার কারণে কার্ডগুলো আর বিতরণ করা হয়নি। এরপর থেকে কার্ডগুলো পরিষদের একটি কক্ষে পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে টাকা নেওয়ার পরও এখনো তারা হোল্ডিং কার্ড পাননি। একই সঙ্গে যেসব ওয়ার্ডের কার্ড তৈরি হয়নি, সেই সববাসিন্দাদের টাকা ফিরত পাওয়ার বিষয়েও কোন অগ্রগতি নেই।

