স্টাফ রিপোর্টারঃ
খড়কির চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাজমুল কাদির জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ীর লিজ নেয়া জমি ও মার্কেট নিজেদের দখলে নিয়েছে। ভয় পেয়ে ঐ ব্যবসায়ী কিছু বলতে পারছেন না। এর ফলে ঐ ব্যবসায়ী অনেক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিষয়টি এখন যশোর শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই জাহাঙ্গীর চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হাবিবুর রহমানের লিজ ভাড়াকৃত জমিটি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে মোঃ হাবিবুর রহমান (৪৮) যশোর শহরের মুজিব সড়কের সাবেক সোনালী ব্যাংক ভবন নামে পরিচিত ৫৬ শতক জমি লিজ নেন। এরপর সেখানে ছয়টি দোকান তৈরি করেন। দোকানগুলোর সংস্কারের কাজ চলাকালে কেয়ার টেকার জাহাঙ্গীর তা বন্ধ করে দিয়েছে।
হাবিবুর রহমান যশোর শহরের রায়পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা শেখ আব্দুর রাজ্জাক। ঐ মার্কেটটি বর্তমানে মুজিব সড়ক, পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবনের ষষ্ঠতলায় অবস্থিত। পঙ্গু হাসপাতালের সামনের দিকে নির্মাণাধীন ছয়টি দোকান নিয়ে ঐ জমি। হাবিবুর রহমান একজন ব্যবসায়ী এবং যশোর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য। মুজিব সড়ক পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবনটি এবং পেছনের দোতলা বাড়ি, গাছগাছালি এবং সম্পূর্ণ জমি দুই বছর এবং পরে আরো এক বছরের জন্য শর্তসাপেক্ষে ভাড়া নিয়েছেন। আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
সংস্কার কাজ চলার সময় ২৩ জুলাই দুপুর ২টার দিকে খড়কির জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার লোকজন সংস্কার চলমান প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা শ্রমিকদের ওপর হামলা করে মালামালে ক্ষতি করে। বর্তমানে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। কাজ শুরু করলেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের মারধর করছে। জাহাঙ্গীর ২৭ জুলাই মোবাইলে হাবিবুর রহমানের কর্মচারীকে সংস্কার কাজের আশপাশে যেতে নিষেধ করে। সে সময় তিনি রুবেলের প্রাণনাশের হুমকিও দেন। ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি ইচ্ছা সত্ত্বেও কিছুই করতে পারছেন না। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান মিডিয়ার সাথে কথা বলতে চাননি।
অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা এখন নির্মাণ কাজ শেষ করতে তৎপর। স্থানীয়রা জানান ঐ জমি ও মার্কেটটি সন্ত্রাসীরা পাহারা দিচ্ছে। হাবিবুর রহমানের ইট, বালি, সিমেন্ট ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত। তবে এই জাহাঙ্গীর আগে আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ঘোরাফেরা করলেও এখন তার আচরণ অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। সে বিএনপির মাস্তান দিয়ে অপরাধ করছে।
স্থানীয়রা জানান আমরা হাবিবুর রহমানের জমি লিজ নেয়ার খবর জানি। গত কয়েক দিন ধরে আশা এন্টারপ্রাইজের নজরুলের ছেলে মাসুদ ও সাবেক আওয়ামীলীগ ক্যাডার হাসানের ছেলে রূপম এবং আনোয়ার গাজীর ছেলে রনি সেখানে রয়েছেন। তবে তারা কেন সাইদুরের জমিতে আছে, তা জানা যায়নি। তারা বসে বসে পাহারা দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরের লোকদের নাম শুনেছি মাসুদ, রূপম ও রনি।
সূত্র জানায় এর আগে জমি মালিক সাইদুর রহমান, সুমনা ও কেয়ারটেকার নাজমুল কাদির জাহাঙ্গীর ষষ্ঠীতলার শুভ এন্টারপ্রাইজের মালিক শুভ’র কাছ থেকে জমি বিক্রির নামে তিন কোটি টাকা নিয়েছেন। কিন্তু জমি দেয়নি। অনেক দিন অপেক্ষা করার পর ধীরে ধীরে টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে সব টাকা শুভ কি পেয়েছে, তা জানা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে এই জাহাঙ্গীর ঝিকরগাছা এলাকার কয়েকজনের কাছে জমি দেবেন বলে সাত কোটি টাকার আলাদা আরেকটি চুক্তি চূড়ান্তের পথে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি নতুন সমস্যা সামনে আসছে।

