মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ
খুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) মাদকবিরোধী অভিযান চলছেই। এর অংশ হিসেবে লবণচরা থানা পুলিশের একটি দক্ষ টিম অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লবণচরা থানাধীন ঠিকরাবাদ এলাকায় খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পশ্চিম পাশে সাউথগেট রেস্টুরেন্টের সামনের এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার সুফিয়ান কলোনি, জেলেপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ সিরাজ শেখ এবং মাতার নাম নুর নাহার বেগম।
পুলিশ জানায়, খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেওয়া কঠোর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযানের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন এবং লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশের একটি সাহसी দল ঠিকরাবাদ এলাকায় চেকপোস্ট ও নজরদারি চালায়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন আনোয়ার হোসেনকে আটক করে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে ৪,০০০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো মাদক ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল কি না, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেএমপি সূত্র জানায়, নগরীতে মাদক সরবরাহ, পরিবহন ও বিক্রির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সন্দেহজনক এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদক শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপন্ন করে না; এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। তাই মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেএমপির এই ধরনের অভিযান শহরে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
চেকপোস্ট, পেশাদার অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত খুলনা গড়ার অঙ্গীকার করেছে কেএমপি।

