বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপালে পেড়িখালি পি ইউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার বাবাকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে সিংহড়বুনিয়া-পুটিমারী এলাকার শুভ এর গ্যারেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী চাঁদনী (১৪) এবং তার বাবা মো: মফিজুল হাওলাদারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে চাঁদনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মফিজুল হাওলাদার বাদী হয়ে রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আহত শিক্ষার্থী চাঁদনী জানায়, “আমি পেড়িখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সকাল সাড়ে ৯টার সময়ে আব্বুর সাথে স্কুলে যাচ্ছিলাম। তখন মাসুদ, মারুফ, নাঈমসহ আরও অনেকেই আমাদের ওপর হামলা করে। প্রথমে আমার ওপর হামলা হয়। আব্বু ঠেকাতে এলে তাকেও মারধর করা হয়।”
আহত চাঁদনীর ফুফু এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “সকালে আমার ভাইজি তার বাবার ভ্যানে করে স্কুলে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পুটিমারী এলাকায় পৌঁছালে মাসুদ, মারুফ ও নাঈমসহ কয়েকজন মিলে ভাইজির ওপর হামলা চালায়। আমার ভাই সেটি ঠেকাতে গেলে তাকেও মারপিট করা হয় এবং ইট দিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত করে। আমরা এই অমানবিক হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপাল থানার আড়ুয়াডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক মফিজুল হাওলাদার সকালে নিজের ভ্যান দিয়ে তার মেয়ে চাঁদনী ও সহপাঠী মেঘলাকে স্কুলে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে সিংহড়বুনিয়া-পুটিমারী এলাকার শুভ এর গ্যারেজের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার কারণে হামলাকারীরা তাদের ভ্যান আটকিয়ে হামলা করে।
হামলায় চাঁদনীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় জখমসহ তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হয় এবং তার বাবাও মাথাসহ শরীরে আঘাত পান। হামলার পরে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রামপাল থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাসুদ হাওলাদার (৫০), মারুফ হোসেন (২৩) ও নাঈম (৩০)-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রাজিব আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

