মো: আল-মাহফুজ শাওন :
খুলনা মহানগরীর নিরালা এলাকার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।
পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ফেলে রেখে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শনিবার কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ৮ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।
তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬), মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সিমা দম্পতির মেয়ে।
পুলিশ জানায়, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমদিকে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জনার বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
কেএমপি জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর খুলনা সদর থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জুলাই আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, মামলার অপর আসামি মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কেএমপি কমিশনার জানান, তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল মামলার তদন্ত ও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল, অতিরিক্ত দায়িত্বে অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর, অতিরিক্ত দায়িত্বে এফঅ্যান্ডবি) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এম. এম. শাকিলুজ্জামান; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান; অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন; সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম; খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

