হুমায়ুন কবির, কটিয়াদি উপজেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার উত্তর ভোগপাড়া মহল্লার মিন্টু প্রফেসরের বাড়ি থেকে শুরু করে পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ আবুল কালামের বাড়ি পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে।
রাস্তার অব্যবস্থাপনায় খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত এবং ধুলো-কাদা মিলে একাকার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তার কোনো সচলতা নেই, ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও বড় ধরনের অসন্তোষ বিদ্যমান। লোকজনের অভিযোগ, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নজর দেওয়ার কেউ নেই!
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিন্টু প্রফেসরের বাড়ি থেকে আবুল কালামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সম্পূর্ণ খোয়া ওঠার ফলে ছোট-বড় সংখ্যক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে যায়, যা ডোবার মত হয়ে যায়। মাটির কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের পোশাক নষ্ট করছে। গর্তের গভীরতা আন্দাজ করে উঠতে না পারার কারণে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে।
এদিকে শুকনো মৌসুমে ধূলোর কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা এবং যাতায়াতকারী লোকজন শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের ধূলিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কটিয়াদী পৌর শ্রমিক দলের সচিব ফারুক লস্কর হতাশা প্রকাশ করে জানান, “আমরা নিয়মিত পৌর কর (ট্যাক্স) দিয়ে থাকি, কিন্তু নাগরিক সুবিধার মধ্যে কিছুই পাচ্ছি না। সড়কের এই পরিস্থিতি এমন যে, সুস্থ মানুষও এখানে চলে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাতের বেলা চলাচল করা আরো কঠিন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও সম্পূর্ণ কোন সংস্কার প্রক্রিয়া নেই।”
স্থানীয় ইজিবাইক চালক মতিন মিয়া উল্লেখ করেন, খারাপ রাস্তার জন্য তাদের যানবাহনের অংশগুলো প্রায়ই ভেঙে যায়। এর ফলে আয়কর একটি বড় অংশ গাড়ি মেরামতের পেছনে চলে যায়।
দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ও বাণিজ্যের স্থবিরতা:
এই ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যান চলাচল করে। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী, গর্ভবতী নারীদের এবং স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাছাড়া রাস্তার বেহাল হওয়ার কারণে পৌর এলাকার ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
রাস্তার এই বেহাল পরিস্থিতি এবং জনগণের অসুবিধার ব্যাপারে কটিয়াদী পৌরসভার প্রশাসক লাবনী আক্তারকে বারবার ফোন করার পরও তিনি ফোনটি তুলেননি।
কটিয়াদী পৌরসভার প্রকৌশলী মহিউদ্দীন আহমেদ বললেন, “আমরা রাস্তার খারাপ অবস্থার দিকে নজর রেখেছি। এই রাস্তাটির সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন পাঠানো হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।”
তবে কর্তৃপক্ষের এই প্রচলিত অঙ্গীকারে কটিয়াদী পৌরবাসী আর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের দাবি, জনস্বার্থে কোনও অজুহাত না দেখিয়ে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা হোক।
