কিশোরগঞ্জ সংবাদাতাঃ
কিশোরগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও ফুটপাত দখলজনিত সমস্যা নিরসনে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে শহরের বটতলা মোড় এলাকা থেকে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং পৌরসভার সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে শহরের বটতলা মোড়, আখড়াবাজার, একরামপুর ও গৌরাঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি সড়কে রাখা মালামাল, অস্থায়ী দোকানপাট এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে ছিল। এর ফলে প্রতিদিনই যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে নানা ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তারা জানান।
অভিযানে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) জেবুন নাহার শাম্মী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নগর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের সরকারি জায়গা কিংবা ফুটপাত দখল না করার জন্য সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবসা কার্যক্রমের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে যানজট কমার পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়। পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।
