‘মামলা না তুললে খুনের হুমকি’—কটিয়াদীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

‘মামলা না তুললে খুনের হুমকি’—কটিয়াদীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ‘মামলা না তুললে খুনের হুমকি’—কটিয়াদীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিরা জামিন পেয়ে অবিলম্বে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং মামলার সাক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ করে দ্বিতীয়বার হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আসামিদের ধারাবাহিক হুমকি ও হামলার ফলে ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আজ বুধবার দুপুরে কটিয়াদী মডেল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি উচে ধরেন ভুক্তভোগীরা।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সবুজ মিয়া, বাজিদ মিয়া, ফয়সাল মিয়া, দুর্জয়, বাবু, উজ্জ্বল, এলাছ, রমিজ, সুজন, বকুল এবং রাকিবসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন।

লিখিত বক্তব্যে তারা প্রশাসনের কাছে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লেখা বক্তব্য এবং অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে নিহত এ.কে বাশার রতনের ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তিনি জানান, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে আসামিরা নির্মমভাবে এ.কে বাশার রতনকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কটিয়াদী থানায় একজন হত্যার মামলা রুজু হয়। কিন্তু সম্প্রতি মামলার মূল আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে আরো নিঃসংবদ্ধ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, জামিন পেয়ে মাত্র ২ জুন, মঙ্গলবার বিকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সাক্ষী এবং বাদীপক্ষের উপর। তাদের আক্রমণে এ.কে বাশার রতনের ভাই ছিদ্দিকুর রহমান বাচ্চু, তার মাতা সুফিয়া খাতুন এবং বোনের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং পুনরায় হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়। বর্তমানে আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহতের আত্মীয়স্বজন আর্তনাদ করতে থাকেন। তারা জানান, “আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন ঘরে নিরাপদে ঘুমাতে পারছি না। আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও যেকোনো মুহূর্তে হত্যা করা হতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিব্যক্তি জানান, জামিন পাওয়ার পর আসামিরা যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

তারা কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবং কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়াও স্থানীয় গুণীজন এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।