মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের বনগ্রাম আদর্শ কিন্ডার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক মো. ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বনগ্রাম ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বনগ্রাম আদর্শ কিন্ডার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন খান মার্শাল, অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের বনগ্রাম আদর্শ কিন্ডার স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান।
তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে সেটি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
আইনজীবীরা আরও বলেন, ”অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।”
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান। তারা দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মো. ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

