রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
কয়েক দিনের দীর্ঘ বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি গ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাটের অভিযোগে স্থানীয়রা এক আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক, বাড়িসমূহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি ডুবে গেছে। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার লোক পানির তলে আটকা পড়েছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারাব পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা এবং গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কোশাব, আইতলা ও ডুলুরদিয়া গ্রামে বেশিরভাগ স্থানে কোমর সমান পানির স্তূপে পূর্ণ রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী সাধারণত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারছেন না। কৃষিজমি এবং মাছের খামার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষক এবং মাছচাষিরা প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইস্টউড সিটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প কর্তৃক প্রায় ছয়টি সরকারি পানি নিষ্কাশনের খাল বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও, এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
হান্ডি মার্কেট থেকে ডেওরি বিল, মুকসুর বাড়ি থেকে মগার বাড়ি, কালাদি থেকে ভুলতা, বাড়ৈপাড় থেকে ডুলুরদিয়া ও নলপাথর, ইকবালেরটেক থেকে নরাবো এবং নরাবো থেকে নলপাথর পর্যন্ত কিছুর পানি নিষ্কাশনের খাল বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দূষিত জল চলাচলের সময় অনেকেই চর্মরোগ এবং পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের শিকার হচ্ছেন, যার মধ্যে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় জনগণের দাবি, গত কয়েক দিনে অর্ধশতাধিক লোক ঠান্ডাজনিত এবং পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
নলপাথরের বাসিন্দা আজু মিয়া মন্তব্য করেছেন, “খাল ভরাট হওয়ায় পানি নামছে না। কোমর সমান পানির কারণে কাজে যেতে পারছি না, এবং গবাদি পশু পালনে সমস্যা হচ্ছে। জরুরিভাবে খাল পুনঃখননের প্রয়োজন।”
কালাদি এলাকার আলী হোসেন জানান, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা ডুবে যায়। বর্তমানে টানা বর্ষণে রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছেনা এবং মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, খালের অঞ্চলে সংরক্ষণ রেখে বালু ফেলা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, हाल में চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সবাইকে দূষিত পানি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মারজানুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি খাল ভরাটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, দ্রুত অবৈধভাবে ভরাট হওয়া সরকারি খাল পুনরুদ্ধারে, পানি নিষ্কাশনের পথ খুলে দেওয়ার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

