মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
টেকনাফ উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং: চট্ট-২৯৬০) আয়োজন করেছে অভিষেক ও পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম, যা শুক্রবার (১২ জুন) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তর্গত খারাংখালী দারুত তাওহীদ ইসলামীয়া বালিকা মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি।
বিশেষ অতিথির মধ্যে ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী, কক্সবাজারের প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন; মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি; শামসুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা সভাপতি উদ্বোধন ও পরিচয়পত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। সংগঠনের সভাপতি নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামালের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
বক্তারা তাদের বক্তৃতায় শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করতে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্মাণ শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে সম্ভব। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নতুন কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে এবং ইউনিয়নের নতুন সদস্যদের পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। এই সময়ে উপবিষ্ট ছিলেন অসংখ্য নির্মাণ শ্রমিক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোর স্থাপনায় নির্মাণ শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। যদিও শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম সারথি, তারপরও তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার ও সুবিধার অভাবে ভোগেন। তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার সুবিধা জানান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সাধন করবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক তৈরি করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের শ্রমবাজারে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকরা অধিকারহীনতা ও কর্মসংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, টেকনাফ স্থলবন্দর, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে নানা সরকারি প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার আওতায় বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেকের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
তিনি স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। শেষে শ্রমিকদের কল্যাণ ও সংগঠনের উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।
