টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান

টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):

মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বোট থেকে ৫০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৯ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার ০৬ জুন ২০২৬ দুপুরে, কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন।

সমুদ্রপথে মানব পাচার আটকাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, টেকনাফের উপকূল দিয়ে বহু মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে, ৫ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের জাহাজ মনসুর আলী, টেকনাফ স্টেশন, আউটপোস্ট শাহপরী ও বাহারছড়া মিলিতভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল।

অভিযানের সময়ে, একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলে, বোটটি নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্রুত গভীর সমুদ্রে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাড়া দিয়ে বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটিকে আটক করা হয়। আটক বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয় এবং ৯ জন পাচারকারীকে ধরে ফেলা হয়।

উদ্ধারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একটি গোন্ধকারী পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি এবং উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের টেকনাফে নিয়ে আসে। এরপর তাদের গোপন স্থানে আটক করে নির্যাতন করে এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পাচারকারীরা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে।

উদ্ধারদের, আটক বোট এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মানব পাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতে কোস্ট গার্ড এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

(ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তা: লেঃ কমান্ডার মোঃ মুত্তাকীন সিদ্দিকী, (অবসরপ্রাপ্ত), বিএন, স্টেশন কমান্ডার টেকনাফ।)