হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর জেলার একটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের নতুন গভর্নিং বডি গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়টির বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৮ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ প্রদর্শনের (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন।
কলেজের তথ্য এবং মামলার কাগজপত্র থেকে জানা যায়, কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের পূর্ববর্তী গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শককে আবেদন করে। যাচাইকরণের পরে, ৩ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ একটি চিঠিতে নতুন কমিটির প্রচার করে। এতে সভাপতি হিসেবে মোঃ ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ মনির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে জড়িত শিক্ষক এবং স্থানীয় সদস্যদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী এবং কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবদুর রহমান জানান, সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি ভুয়া শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়, যেখানে সহকারী অধ্যাপক কমল কুমার, এনাম আহমদ, এবং জান্নাত আরাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই ভুয়া নির্বাচনের কাগজপত্র ১২ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ৩ মে তা অনুমোদন করে। কিন্তু নতুন কমিটির অনুমোদন হওয়ার পর, ১১ মে ২০২৬ তারিখে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়ব্রত চৌধুরী এবং নির্বাচন কমিশনার একটি মিথ্যা শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেন এবং ২০ মে ২০২৬ তারিখে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করেন। নথিপত্রে পূর্বে নির্বাচন দেখিয়ে কমিটি অনুমোদনের পর ফলোআপে নতুন ভোটের আয়োজনকে ‘বিরোধপূর্ণ, বেআইনি ও প্রতারণামূলক’ বলে মামলা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবদুর রহমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়ব্রত চৌধুরী, নির্বাচন কমিশনার এবং নতুন গঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরীসহ মোট ১৮ জনকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি ও দাতা সদস্যরা।
আদালতের নির্দেশ: মামলাটি গ্রহণ করে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত, লক্ষ্মীপুর বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না কেন, সে বিষয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজটি টানা তিনবার লক্ষ্মীপুর জেলার সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর এই শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি নিয়ে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়ব্রত চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কলেজের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল সঙ্কটের দ্রুত সুষ্ঠু সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরছে, অন্যথায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং শিক্ষাগত কার্যক্রম মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
